জীবনধারা
Trending

পুজোয় হাওড়ায় বিশেষ আকর্ষণ ‘মাদুর-গা’

পুজোয় হাওড়ায় বিশেষ আকর্ষণ ‘মাদুর-গা’

বাংলার কুটির শিল্পকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরতে মাদুরের শিল্পকলা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এইবার হাওড়ার পুজোয়। পুজো মণ্ডপে মাদুর কাঠির বিভিন্ন শিল্পকলা তুলে ধরতে চলেছেন হাওড়ার সাঁতরাগাছি চৌধুরী পাড়া বারোয়ারিতলার পুজো উদ্যোক্তারা। ২০১৮ তে এদের পুজোর থিম ‘মাদুর-গা’।

রামরাজা স্পোর্টিং ক্লাব পরিচালিত সাঁতরাগাছি সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবার নব্বই পেরিয়ে একানব্বই বছরে পদার্পণ করল। সাঁতরাগাছি মোড় পেরিয়ে চৌধুরী পাড়া সেকেন্ড বাই লেনে এলেই সকলের চোখে পড়বে এদের সুদৃশ্য মণ্ডপ। সাবেকিয়ানা ও আধুনিকতার মেলবন্ধনেই গড়ে তোলা হচ্ছে এই মণ্ডপসজ্জা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বারবাসুদেবপুরের প্রগতি সদন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা গত একমাস ধরে তৈরি করছেন মাদুর কাঠির বিভিন্ন শিল্প কাজ। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত মাদুর কাঠি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে ধরা হবে এই মণ্ডপ সজ্জায়। উদ্দেশ্য অতি প্রাচীন বাংলার এই শিল্পের প্রচার এবং প্রসার।

ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক গৌরব মৈত্র জানান, সাঁতরাগাছি সার্বজনীন দুর্গোৎসব হাওড়া শহরের প্রাচীন বারোয়ারি পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। রামরাজাতলা এলাকায় বারোয়ারিতলার পুজো বলেই এটি অধিক পরিচিত। রামরাজা স্পোর্টিং ক্লাব স্থানীয় অধিবাসীদের সহযোগিতায় বিগত ৯০ বছর ধরে এই পুজোর পরিচালনা করে আসছে। সনাতন সাবেকিয়ানাই এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বর্তমানে এই সাবেকিয়ানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। পুজোর ভাবনায় এসেছে নতুন চমক। দুর্গা পুজো ব্যতীত রামরাজা স্পোর্টিং ক্লাব সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের কাজে নিযুক্ত থাকে। যেমন রক্তদান শিবির, বিনা ব্যয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবির, পালস পোলিও টিকাদান কর্মসূচি প্রভৃতি। এছাড়াও টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছোট ছেলেমেয়েদের সহায়তা প্রদান সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যোগদান।

তিন আরও জানান, এইবার পুজো ভাবনায় মাদুর-গা। এই ভাবনার মূলে রয়েছে নারী শক্তির বিকাশ ও বাংলার এক অতি প্রাচীন শিল্পকলার প্রচার। মা দুর্গা শক্তি দায়িনী ও দুর্গতিনাশিনী। আমাদের সমাজের প্রতিটি মহিলাই মা দুর্গার স্বরূপ। মা দুর্গা যেমন ত্রিশূল দিয়ে অসুর নিধন করেছিলেন৷ ঠিক একইভাবে আমাদের সমাজের এক বৃহৎ অংশের মহিলারা বাংলার এক অতি প্রাচীন শিল্প মাদুরকে অস্ত্র করে সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রাখছে৷ এই বাংলাকে বিশ্ব মানচিত্রে অন্যতম জায়গা করে দিয়েছেন। তাঁদের সেই সৃষ্টিকে সম্মান জানাতেই অনন্য এই সৃষ্টি।

প্রাচীন এই শিল্পকে সকলের সামনে তুলে ধরতেই আমাদের এই ভাবনা। সনাতন সাবেকি মাতৃ মূর্তির পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের বারভবানীপুর এলাকার এক মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি মাদুরের বিভিন্ন শিল্পকর্ম দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে৷ মায়ের মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর সনাতনী রূপ।

ক্লাবের সম্পাদক অমিতাভ ধর শর্মা জানান, এই বছর তাঁদের পুজোর উদ্বোধন হবে চতুর্থীর সন্ধ্যায়। বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠের মহারাজ উপস্থিত থাকবেন ওই অনুষ্ঠানে। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই পুজোয় একবার না এলে হাওড়া শহরে আপনার ঠাকুর দেখার স্বাদ অপূর্ণ থেকে যাবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Bitnami